কৃত্রিম প্রজনন কাহিনী - First Mordern Bangla Agro Based Blog

Breaking

Friday, March 2, 2018

কৃত্রিম প্রজনন কাহিনী

কৃত্রিম প্রজনন কাহিনী:



আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন বা এ. আই. ( Artificial Insemination বা AI) এর বাংলা কৃত্রিম প্রজনন- এ কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। কৃত্রিম প্রজনন অনেক রকম আছে (যেমন OI, ICI, IUI, ET, IVF, ICSI, Cloning ইত্যাদি ইত্যাদি)। তার মধ্যে একটি হল এ. অাই.। চলুন ডেইরীর জন্য প্রাসঙ্গিক দুটি পন্থা নিয়ে আলোচনা করি :-
এক: আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন বা এ আই (A.I.)
এটি আমরা সবাই জানি ও বহুল প্রচলিত। স্ট্র এর মাঝে সিমেন থাকে (যা লিকুইড নাইট্রোজেনে গভীর হিমায়িত থাকে)। এই সিমেন এ. আই. গানের মাধ্যমে গাভীর জরায়ুর মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় হীট আসলে। তাই এর ভাল নাম হল IUI (Intra Uterine Insemination)। সিমেন ২ ধরনের- সাধারণ অার Sexed । সাধারণ সিমেনে বকনা বা ষাড় যেকোন বাচ্চা হতে পারে। Sexed সিমেনে বকনা চাইলে বকনা। আগে সেক্সড সিমেনের মান ও গর্ভধারণের হার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বর্তমানে USA-Canada তে যে সেক্সড সিমেন তৈরি হয় তার মান সাধারণ সিমেনের প্রায় সমান। তবে দাম বেশি।
আপনার এলাকায় ভাল সিমেন না থাকলে যেখান থেকে পারেন ভাল সিমেন সংগ্রহ করুন। এজন্য নাইট্রোজেন ক্যান লাগবে। (নাইট্রোজেন ক্যান নিয়ে আরেকদিন লিখব।) এবার গাভী হীটে আসলে এ. আই. কর্মী ডেকে ক্রসব্রীডিং এর নিয়ম মেনে সিমেন দিন। নিজে যদি এই সিমেন দেয়া শিখে নিতে পারেন তবে আপনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। তবে সাবধান, আনাড়ি হাতে গাভী নষ্ট হবে কিন্তু।
দুই: এমব্রায়ো ট্রান্সফার বা ভ্রুণ প্রতিস্থাপন (Embryo Transfer বা ET) বা ই.টি.:-
ভাই, ভয় পাবেন না- খুব সহজে বলি-
গাভীর হীট শেষ হলে জরায়ুতে একটি ডিম আসে। সিমেন দেয়ার কারনে এই ডিম থেকে একটি ভ্রুণ হয়। ভ্রুণ বড় হয়ে বাচ্চা তৈরি হয়। কখনো কখনো দৈবক্রমে ২ টি ডিম বের হলে জমজ বাচ্চা তৈরি হয়। ই.টি. এর ক্ষেত্রে গাভীকে একটি বিশেষ হরমোন ইনজেকশন দেয়া হয়- তাতে জরায়ুতে ৫-৬০ টি পর্যন্ত ডিম বের হয়। এবার সিমেন দিলে জরায়ুতে অনেকগুলো ভ্রুণ তৈরি হয়। Sexed সিমেন দিলে শুধু বকনার ভ্রুণ পাওয়া যাবে। অত ভ্রুণ তো আর একটি জরায়ুতে বড় হতে পারে না। তাই বের করে আনা হয়। বের করাটাও খুব সহজ। দুটি নল জরায়ুতে ঢোকানো হয়। বিষ খাওয়া রোগীর স্টমাক ওয়াশের মত। একটি দিয়ে স্যালাইন জরায়ুতে ঢোকে আর আরেকটি দিয়ে বের হয়ে আসে। এই বের হয়ে আসা স্যালাইনের মাঝে ভ্রুণগুলো ভাসতে থাকে। এবার মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখে ভ্রুণগুলোকে তুলে এনে গ্লিসারল জাতীয় তরলে রেখে স্ট্রতে ভরা হয়। এই স্ট্র কে লিকুইড নাইট্রোজেন এ রাখলেই হয়ে গেল ফ্রোজেন এমব্রায়ো বা হিমায়িত ভ্রুণ। এবার গাভী হীটে আসলে আমরা যেমন সিমেন দেই, তেমনি কিছু হরমোন ট্রিটমেন্ট করে গাভীকে এমব্রায়ো দিলেই তা প্রেগন্যান্ট হবে। এরই নাম ই.টি.।
আর এই যে ফ্রোজেন ভ্রুণ- তা বাজারে আনার দায়িত্ব সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের- খামারীর নয়। আর এ.আই. এর জন্য যেমন এ.আই. কর্মী, তেমনি ই.টি. এর জন্য ই.টি. কর্মী- কিংবা এমন কর্মী বাহিনী তৈরি করতে হবে যারা এ.আই. ও ই.টি. দুটোই পারবে। কিন্তু আমাদের দেশে এগুলো কবে হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর আমরা প্রায় কিছুই না শিখিয়ে একদল লোককে এ.আই. কর্মী বলে মাঠে ছেড়ে দিয়েছি- এখন তারাই আমাদের কাণ্ডারি, বিপদ-আপদের ভরসা।
( এ.আই. কর্মী ভাইয়েরা- ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি- আপনাদের জ্ঞানের দৈন্যতার দায় আপনাদের নয়। যে দায়িত্বশীলেরা আপনাদেরকে এ.আই. কর্মী বানালো- তাদের দায়িত্বজ্ঞান প্রশ্নবিদ্ধ।)
ই.টি. এর সুবিধা:
একবার চিন্তা করে দেখুন তো একটা ভাল মানের (জেবু-টরাইন, ৩৭.৫%+৬২.৫%) গাভী তৈরি করতে কত শর্ত আর সময় দরকার। কেউ যদি এই ভাল গাভীর ফ্রোজেন ভ্রুণ বিক্রি করত- আর আপনি তা সংগ্রহ করে যে কোন দেশীয় বড় সাইজের দুই তিন বিয়ানের গাভীতে দিলেই পেয়ে যেতেন কাংখিত বাচ্চা। অত সাত-পাঁচ ভাবতে হত না। আপনি আপনার গাভীর হাই-পারসেন্টেজ নিয়ে বিপদে আছেন? - ফ্রোজেন ভ্রুণ দিয়ে দিন- ব্যাস, ভ্রুণের পার্সেন্টেজ তো আগে থেকে নির্ধারিত। ই.টি. বাচ্চা যে গাভীর জরায়ু থেকে জন্ম নেবে তার 'নাড়ী ছেড়া ধন' হলেও কিন্তু জেনেটিক কোন সম্পর্ক নেই।
ইশ্, যদি ব্রাজিলের 'হাইব্রীড ভিগর' সমৃদ্ধ সেরা গীরোলান্ডোর (৩৭.৫% গীর+ ৬২.৫% হলস্টিন) ফ্রোজেন ভ্রুণ এদেশে বিক্রি হতো- মরেও শান্তি পেতাম!!
(হাইব্রীড ভিগর কি জিনিস সেটা অারেকদিন লিখব।)
ফ্রোজেন ভ্রুণ দামি, কিন্তু কত দামি? গত দুই বছরে নতুন উদ্যোক্তারা ভাল গাভীর আশায় দালাল আর ব্যাপারীদের কত-শত কোটি টাকা দিয়েছেন- তার পরিসংখ্যান কি কারও কাছে আছে?
বহু আগে এক ভিখারীর ছেলেকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল- তুই যদি রাজা হস্ তো কি করবি? সে জবাব দিয়েছিল---
" আমি যদি রাজা হতাম-
সব ভাত গুড় দে খেতাম।"
তার সারাক্ষণ ভাতের চিন্তা- গুড় তার কাছে আরাধ্য। সে রাজা হলে গুড় খেতে চায়। গুড় খাওয়ার চেয়েও ভাল কোন আয়েশের সন্ধান সে জানেই না।
কোনটা সবচেয়ে ভাল আমরা তো জানিই না। ভাই, ভাল জিনিস এই দুনিয়াতেই আছে। আমাদেরকে চাইতে হবে। কাঁদতে হবে- চিৎকার করতে হবে। না চাইলে মা ও দুধ দেয় না। আমাদের চাইতে হবে দুটি জায়গায়:
এক: সরকারের কাছে:
সরকারী বিজ্ঞানীরা এসব কিন্তু খুব ভাল জানেন। আমরা যার যার অবস্থান থেকে তাদের জানাই- আমাদের চাহিদাগুলো। তারা সুপারিশ করলে তবে কোনদিন হয়তো সরকার প্রকল্প চালু করবে। আর তারা যদি দেশের ১-২ লিটার গরুকে ১০-২০ লিটারে উন্নীত করে ১০০০% অর্থাৎ হাজার ভাগ সাফল্য পেয়ে গেছেন মনে করে বসে থাকেন তাহলে কোনদিনই ডেইরীতে সুদিন আসবে না। আর বিজ্ঞানী মহোদয়গণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- বিজ্ঞানী কেবল বিজ্ঞানই জানেন না- তার থাকতে হয় দার্শনিকের দৃষ্টি, উদ্ভাবকের কৌশল আর শিল্পীর মন। ডেইরী কেবল একটি সায়েন্স নয়, আর্টও।
দুই: বেসরকারী উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে:
১. বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্রাকের কার্যক্রমে আমি বড়ই হতাশ- কিছুই বলার নেই।
২. আমেরিকান ডেইরী লিঃ প্রথমে খুব আশা দেখালেন- তারপরে তারাও সরকারী লোকেদের মত আচরণ শুরু করলেন। শিক্ষামূলক কোন কার্যক্রম নাই- ফেসবুক, ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দেন না। খালি দুই দিন পর পর তাদের সিমেনের বাচ্চার চেহারা ও ওজন ভাল আর হাইব্রীড ৯৮৪ গোল্ড জাতের ভুট্টায় বিঘায় ৮-১০ টন ফলন পান এটা প্রচার করেন।
৩. মিল্কভিটা, এসিআই, ইজাব, লালতীর- এনাদের কার্যক্রম সীমিত ও অস্পষ্ট।
যাইহোক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নতুন বৃহৎ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলব- আপনারা প্লীজ ব্যাপারগুলোতে নজর দিন। ভাল সিমেন, ফ্রোজেন এমব্রায়ো- এমনকি ভাল গাভী তৈরি করে বিক্রির ব্যবসা (ব্রীডিং ফার্ম) অনেক লাভজনক । দেশে ক্রেতার কোন অভাব নেই। ব্রয়লার-লেয়ার মুরগীতে প্যারেন্টস্টক খামার ও হ্যাচারী থাকলে ডেইরীতে কেন নয়। এখানে প্রচুর সম্ভাবনা আছে অর্থ উপার্জনের। আপনাদের R&D (গবেষনা ও উন্নয়ন) বিভাগের লোকজন কই? তাদের বলেন যেন বাজার যাচাই করে। আর সিনিয়র খামারী ভাইরা যাদের সব জায়গায় অ্যাকসেস (প্রবেশাধিকার) আছে তারা একটু দৌড় ঝাপ করুন না ভাই- বহুত ফায়দা হবে।
★★★কেন এত কথা, এত দাবি-দাওয়া?★★★
চলুন একটু আত্নসমালোচনা করি। পুরোটা না পড়ে ভাববেন না যেন আমি খামারীদের স্বার্থবিরোধী কথা বলছি।
ভাই, একটু খেয়াল করুন- দুধ সবচেয়ে perishable (সহজে নষ্ট হয়) পন্য। ইহা জরুরী শিশুখাদ্য হিসেবেও পরিচিত। গরুর খামারের সংখ্যা গ্রাম ও শহরতলীতে বেশি- শহরে কম। কিন্তু দেশে সামর্থবান লোকের বাস শহরেই বেশি। অতএব দুধ শহরের দোকান আর সুপারশপের সেলফ পর্যন্ত যেতে হবে। কিন্তু সারাদেশের খামারের দুধ শহর পর্যন্ত যাওয়ার কোন কার্যকর চেইন নেই (পাবনা- সিরাজগঞ্জ- মিল্কভিটা বাদ দিলে - কিন্তু সেখানেও অনেক ঘাপলা আছে।) শহরের মানুষ দুধ পায়না- তাই খায়না। পায়না বলতে- প্যাকেটজাত তরল দুধে ভেজাল (মাখন তুলে রাখে), গুড়া দুধে ম্যালামিন, সীসা কত কি?! গোয়ালরা যে দুধ দ্বারে দ্বারে নিয়ে যায় তাতে পানি, ফরমালিন -আরো কতকি আছে -কে জানে? আবার শহরের খামারীরা অনেকে ৮০-১২০ টাকায়ও খাঁটি দুধ বিক্রি করেন। তার মানে ভোক্তারা শান্তিতে নেই। ভোক্তা অধিকার ফোরামের লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করল বলে!!! আমাদের দেশে মিল্কভিটা ৬৫ টাকা ( ইন্ডিয়াতে ৬০ টাকা, পাকিস্তানে ৬৮ টাকা)। তো ভাই, প্যাকেট বা বোতলজাত দুধ তো ফিনিশড প্রোডাক্ট- এর কাচামাল আমাদের খামারের দুধ। ৬৫ টাকায় যদি কোম্পানীকে বিক্রি করতে হয় তো আমাদেরকে ৪০-৫০ টাকায় তাদের দিতে হবে। এর বেশি আমাদের চাওয়া বলেই নতুন নতুন দুধ প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়ে উঠছে না। আমাদের বক্তব্য হল- একটি গাভীর পেছনে দৈনিক ৪০০ টাকা খরচ হয় তাই ৬০০ টাকায় দুধ বেচতে না পারলে তো দুটো পয়সা থাকে না। আর দুধ যেহেতু ১০ লিটার- কমপক্ষে ৬০ টাকা কেজি দরে বেচতে না পারলে খামার লাটে উঠবে। তাই আমরা একে অন্যকে কিভাবে দুধ একটু দামে বিক্রি করা যায় সে পরামর্শ দেই- আর মিষ্টির দোকান খুলতে বলি। ভাই সবাই যদি মিষ্টির দোকান খুলতে শুরু করি এত মিষ্টি খাবে কে? দুধ একটি আদর্শ খাবার আর মিষ্টি অপথ্য- ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল রোগীর জন্য বিষ। একটু ভাবুন তো- এই ৪০০ টাকা খরচ করেই যদি আপনি পেতেন ৩০ লিটার দুধ তবে আপনাকে দাম নিয়ে মাথা খুঁটতে হবে না। ৩৫-৪০ টাকা বেচলেও খামার লাভবান থাকত। সব এলাকায় পর্যাপ্ত দুধ মিললে পয়সাওয়ালারা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বাদ দিয়ে এসে মিল্ক প্রসেসিং কোম্পানী খুলত আর প্রতিযোগীতামূলক বাজার তৈরি করত। আমাদের দুধ বিক্রি নিয়ে চিন্তা করতে হত না- শহরগুলোতে থাকা মানুষগুলোর দ্বারে পৌছে যেত খাটি প্যাকেট/বোতলে ভরা দুধ। দেশের চাহিদা মেটাতে পারলে বিদেশেও রপ্তানি করা যেত।
আরেকটু ভয় ধরিয়ে দেই-
হাইপারসেন্টেজ, বায়োসিকিউরিটির অভাব, ঘাস-সাইলেজ না দেয়া, কৃমি ইত্যাদি কারনে আমাদের গরুকে যে কি পরিমানে ঔষধ খাওয়াতে হয়- তা সবারই জানা। জানেন তো, বেশিরভাগ ঔষধেই দুগ্ধ বিরতিকাল (Milk withdrawal period) আছে। এটি ১-১০/১৫ দিন পর্যন্ত হয়। নিয়ম হল এই সময়ের দুধটা ফেলে দিতে হবে- বাজারজাত করা যাবে না। কিন্তু আমরা বর্তমানে কেউই তা করি না। কিন্তু সেদিন বেশি দূরে নয়- এই বিরতিকালের দুধ ফেলে দিতে হবে। কারন মানুষ সচেতন হচ্ছে। আর এটা আমাদের পবিত্র দায়িত্বও বটে। কিন্তু এখন যে দুধ হয় আর যে টাকা আসে তাতে দুধ ফেলে দিলে খামারীর পেটে লাথি পড়বে। কিন্তু যদি একই খরচে ৩০-৪০ লি: দুধের গরু আমরা পালতে পারতাম তাহলে, একদিকে যেমন রোগবালাই কম হত আবার বিরতিকালের দুধ ফেলে দিলেও গায়ে লাগত না।
তাই বলি, ভাই- ভবিষ্যৎটা দেখতে পাচ্ছেন তো? ভাল সিমেন, ফ্রোজেন ভ্রূন - এগুলো না পেলে কিন্তু ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই, সবাই এগিয়ে অাসুন যার যার অবস্হান থেকে। ঐক্যবদ্ধ হোন- দাবী অাদায়ের জন্য কাজ করুন- শ্রম দিন- অাওয়াজ তুলুন- নিঃস্বার্থভাবে ডেইরী ফার্মারস্ এসোসিয়েশনকে শক্তিশালী করুন।অামরা না করলে, করবে টা কে???
"উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ,
ভয় নাই , ওরে ভয় নাই —
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই ।"

লেখকঃ খালিদ রবিন

No comments:

Post a Comment